শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
আজ বিসিবিতে খালেদ মাহমুদ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রায় ১২ বছর ধরে বোর্ড পরিচালক থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক ক্ষেত্রেই উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক। সেই খালেদ মাহমুদ এখন আর বিসিবির পরিচালকই নন!
আরেক সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের মতো খালেদ মাহমুদও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিসিবির পরিচালকের পদ থেকে সরে গেছেন। যদিও ফারুক আহমেদের বোর্ডে তাঁর আর না থাকতে চাওয়ার কারণটা একরকম ‘ওপেন সিক্রেট’ই। সাবেক সভাপতির সঙ্গে শেষ দিকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও একসময় মাহমুদ ছিলেন নাজমুল হাসানের আস্থাভাজন পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম।
বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদের সংস্কারমুখী চিন্তাভাবনায় তাঁর মতো পরিচালকেরা থাকবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। মূলত সেই বার্তা বুঝেই ২০১৩ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে বিসিবির পরিচালক হওয়া মাহমুদের সরে যাওয়া।
পরিচালক হিসেবে সর্বশেষ বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান ছিলেন মাহমুদ, সঙ্গে ছিলেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান পদেও। দায়িত্বপালন করেছেন প্রধান কোচ, অন্তবর্তীকালীন কোচ, সহকারী কোচ, টিম ম্যানেজার, এমনকি টিম ডিরেক্টর হিসেবেও। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এসবের জন্য কখনো কখনো বিসিবি থেকে মোটা অঙ্কের বেতনও নিয়েছেন তিনি, যা সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
২০১৮ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে মাহমুদ ছিলেন বাংলাদেশের ‘হেড অব টিম’। তার কয়েক মাস আগে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বিসিবির চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় ওই সিরিজে দলে কোনো প্রধান কোচ ছিলেন না, রিচার্ড হালসল ছিলেন সহকারী কোচের দায়িত্বে। কিন্তু পরে ‘হেড অব টিম’ মাহমুদই নেন প্রধান কোচের ভূমিকা। শুধু ওই সিরিজের জন্যই তিনি বিসিবির কাছ থেকে সম্মানী নিয়েছিলেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০১৯ বিশ্বকাপ শেষে স্টিভ রোডসের বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কা সফরে প্রধান কোচ হিসেবে গিয়েছিলেন মাহমুদ।
নিষ্ক্রিয় থাকলেও সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান ও পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী এখনো বিসিবির পরিচালক পদ ছাড়েননি। তবে নাজমুল হাসান সভাপতির পদ থেকে এবং শফিউল আলম চৌধুরী উইমেন্স উইং প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।